Bhakti Shastri Answer : ঈশোপনিষদ

প্রশ্ন:

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে কিভাবে ঈশাবাস্য নীতি প্রয়োগ করা যাবে তা নিজের ভাষায় উল্লেখ করুন:

সমাজে 

ইসকনে 

আপনার ব্যক্তিগত জীবনে

নিজের ভাষায় বর্ণনা করুন নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে ঈশাবাস্য নীতি প্রয়োগ করার ফলে কি উপকার হবে:

সমাজে 

ইসকনে 

আপনার ব্যক্তিগত জীবনে 

শ্রীঈশোপনিষদের ১-৩ মন্ত্র থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করুন। 


উত্তর:

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে কিভাবে ঈশাবাস্য নীতি প্রয়োগ করা যাবে তা নিম্নে বর্ণনা করা হল --

সমাজে: 

১) আধুনিক সমাজে মালিক ও শ্রমিকের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় ঈশাবাস্য নীতি লঙ্ঘন করার ফলে। 

২) রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের দ্বন্দ সৃষ্টি হয় ঈশাবাস্য নীতি লঙ্ঘনের কারণে। 

৩) ক্যাপিটালিস্টদের আগ্রাসন নীতি ও  কমিউনিস্টদের কৃত্তিম সাম্যবাদ সৃষ্টি করার প্রবণতা জাগে ঈশাবাস্য নীতি না মানার কারণে। 

৪) ভ্রষ্ট নেতা মন্ত্রীরা সাধারণ মানুষের অর্থ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় ঈশাবাস্য নীতি না পালন করার ফলে। 

৫) অত্যাধিক ভোগ করার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং তদ্পশ্চাৎ অসৎ কর্মে লিপ্ত হবার ফলে বহু মানুষ নিজের জীবনকে বিপদগামী করে তুলছে, কারণ তারা ঈশাবাস্য নীতি মানে না। 


ইসকনে:

১) ইসকনের বিভিন্ন বিভাগের নিজেদের মধ্যে একেঅপরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন না করার প্রবণতা দেখা যায় এই ঈশাবাস্য নীতি না পালন করার ফলে। 

২)  এক মন্দিরের ভক্তরা অন্য মন্দিরে গিয়ে উপযুক্ত সম্মান বা যথেষ্ট সুবিধা পেতে অক্ষম হন, কারণ ঈশাবাস্য নীতি প্রত্যেকে পালন করেন না । 

৩) বিভিন্ন সেবায় নিযুক্ত ভক্তদের শ্রেণীবিভাগ করে তাদের যোগ্যতা বিচার করা বা তাঁদের ভক্তির স্তর বিচার করা, এই ধরণের মানসিকতার সৃষ্টি হয় ঈশাবাস্য নীতি না জানার ফলে। 

৪) কখনও কখনও আর্থিক বা জড় জাগতিক শিক্ষার ভিত্তিতে ভক্তের স্তর নির্ধারণ করার প্রবণতা দেখা যায়। 

৫) অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কর্তৃপক্ষের আদেশ উপেক্ষা করে কেউ কেউ কোনো বিশেষ সেবায় নিযুক্ত হতে চায়। যেমন কোনো ভক্তের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় প্রচার করার আদেশ না থাকলেও সেখানে তিনি প্রচার করতে চান। 


ব্যক্তিগত জীবনে:

১) আমার মধ্যে অত্যাধিক ভোগ করার প্রবণতা যেমন অত্যাধিক নিদ্রা বা সুস্বাদু প্রসাদ পাবার ইচ্ছা জাগ্রত হয় ঈশাবাস্য নীতি না পালনের ফলে। 

২) আমরা অনেকসময় প্রয়োজন অতিরিক্ত সামগ্রী যেমন সবজি কিনে ফেলি কিন্তু তা নষ্ট হয়। 

৩) দুর্গাপূজা আদি সময়ে আমরা এমন অনেক পোশাক ক্রয় করি যা আমরা এক বা দুবার ব্যবহার করি।

৪) আমাদের যোগ্যতার অতিরিক্ত আমাদের প্রতি কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

৫) ভ্যক্তিপথে এসেও আমরা আমাদের প্রাপ্ত কর্মফলকে অস্বীকার করি। 


নিম্নলিখিত ক্ষেত্র গুলিতে ঈশাবাস্য নীতি প্রয়োগ করার ফলে কি উপকার হবে তা নিচে বর্ণনা করা হল--

সমাজে:

১) সমাজে দ্বেষ ঈর্ষা মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। 

২) কোনোপ্রকার অনৈতিক কার্যকলাপ দেখা যাবে না। 

৩) প্রত্যেকে চিন্তামুক্ত হয়ে চলতে পারবে। 

ইসকনে:

১) প্রভুপাদের ইস্কন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সফল হবে। 

২) প্রত্যেক ভক্ত একেঅপরকে উপযুক্ত সম্মান প্রদান করবে। 

৩) প্রত্যেক মন্দির হয়ে উঠবে বৈকুন্ঠ লোক। 

ব্যক্তিগত জীবনে:

১) আমরা প্রকৃত আনন্দ অনুভব করব। 

২) সঠিক ভাবে ভক্তিপথে অগ্রসর হতে পারবো। 

৩) বৈষ্ণব অপরাধ থেকে মুক্ত হবো।


উদ্ধৃতি:

মন্ত্র এক এর তাৎপর্য থেকে:

''ভগবান আমাদের জন্য যেটুকু বরাদ্দ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেইটুকু কেবল আমাদের গ্রহণ করা উচিত। যেমন, গরু দুধ দেয়, কিন্তু সেই দুধটি সে খায় না; সে ঘাস আর দানা খায় এবং তার দুধ হচ্ছে মানুষের খাদ্য। এমনই সুন্দর ভাবে ভগবান সব কিছুর ব্যবস্থা করেছেন এবং তিনি কৃপা পরবশ হয়ে আমাদের জন্য যা আলাদা করে রেখেছেন, তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত, এবং আমাদের সব সময় বিবেচনা করা উচিত, যে সমস্ত জিনিস আমরা গ্রহণ করছি, প্রকৃতপক্ষে সেগুলি কার। ''

''আধুনিক সমাজে শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে সর্বদায় ভীষণ সংঘর্ষ হচ্ছে। এই সংঘর্ষ একটি আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করেছে এবং তার ফলে সমস্ত পৃথিবী বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষে মানুষে শত্রুতা হচ্ছে এবং তারা কুকুর- বেড়ালের মতো ঝগড়া করছে।''

''মানব সমাজের কর্তব্য হচ্ছে ঈশোপনিষদের এই বৈদিক জ্ঞান গ্রহণ করা এবং জড় বস্তুর মালিকানা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ না করা। পরমেশ্বর ভগবান কৃপা করে আমাদের যতটুকু সুযোগ সুবিধা দান করেছেন, তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। কমিউনিস্ট, ক্যাপিটালিস্ট অথবা অন্য সমস্ত দল গুলি যদি প্রকৃতির সম্পদের উপর মালিকানা দাবি করে, তা হলে মানব সমাজে অশান্তির সৃষ্টি হয়, কেননা প্রকৃতির প্রতিটি বস্তুই হচ্ছে ভগবানের সম্পত্তি। ''


মন্ত্র দুই এর তাৎপর্য থেকে :

''বদ্ধ জীবাত্মা তাৎক্ষণিক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য কর্ম তে অভ্যস্ত। সেই স্বার্থপর কর্ম সংকীর্ণ অথবা বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণ মানুষ নিজের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য, সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য কর্ম করে, আর অন্যেরা তার সমাজের, জাতির ও দেশের জন্য বিস্তৃত স্বার্থের বশবর্তী হয়ে কর্ম করে। এই ধরনের বিস্তৃত স্বার্থপরগুলি সাম্যবাদ, জাতীয়বাদ, সমাজতন্ত্রবাদ, পরার্থবাদ এবং মানবিকতাবাদ ইত্যাদি আকর্ষণীয় নাম গ্রহণ করে। এই ধরনের মতবাদগুলি কর্মবন্ধনের আকর্ষণীয় রূপ । কিন্তু ঈশােপনিষদের বৈদিক নির্দেশ হচ্ছে যে, কেউ যদি সত্যি সত্যি এই ধরনের মতবাদ” বা আদর্শগুলি তাদের জীবনে গ্রহণ করেন, তা হলে তিনি যেন সেগুলিকে ভগবৎ- কেন্দ্রিক করেন। সংসারী মানুষ হতে কোন ক্ষতি নেই, অথবা পরার্থবাদী, সমাজতন্ত্রবাণী, সাম্যবাদী, জাতীয়তাবাদী অথবা মানবতাবাদী হতেও ক্ষতি নেই, যদি তিনি কমণ্ডিলি ঈশাবাস্য বা ভগবানকে কেন্দ্র করে সম্পাদন করেন।

''মানুষ যদি কোনোক্রমে পারমার্থিক সুযোগ সুবিধা হারায় যা দুর্লভ মানব জীবনে লাভ করা যায় এবং পুনরায় বিবর্তনের চক্রে পতিত হয়, তা হলে বুঝতে হবে সে অত্যন্ত দুর্ভাগা। তার বিকৃত ইন্দ্রিয়গুলির প্রভাবে মূর্খ মানুষেরা দেখতে পায় না যে, সেগুলি ঘটছে। সুতরাং শ্রীঈশোপনিষদে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, আমাদের শক্তিকে ঈশাবাস্য কার্যকলাপে প্রয়োগ করতে। ''

মন্ত্র তিন এর তাৎপর্য থেকে :

 ''প্রকৃতির নিয়ম এতই নিষ্ঠুর যে, উদর পূর্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করার আগ্রহ সত্বেও বেকার সমস্যা নিরন্তর বেড়েই চলেছে। গর্দভ এবং শূকরের মতাে কঠোর পরিশ্রম করার জন্য আমরা এই মনুষ্য-শরীর পাইনি। মনুষ্য-শরীর পাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য জীবনের পরম সিদ্ধি লাভ করা। আমরা যদি আত্মজ্ঞান লাভের জন্য যত্নবান হই, তা হলে না চাইলেও প্রকৃতির নিয়মে কঠোর পরিশ্রম করতে আমরা বাধ্য হব। এই যুগে মানুষ গাধা এবং ভারবাহী বলদের মতাে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য হচ্ছে।"



 


Popular posts from this blog

Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (4)

Bhakti Shastri Answer : ভক্তিরসামৃতসিন্ধু

Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (3)