Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (3)
প্রশ্ন: সাধারণ ক্ষেত্রে পুন্য কর্মের গুরুত্ব আলোচনা করুন। কৃষ্ণভক্তি অনুশীলনের ক্ষেত্রে পূর্ব সঞ্চিত পুণ্যকর্মের গুরুত্ব মূল্যায়ন করুন। ৭.২৮ শ্লোক এবং তাৎপর্য থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করুন।
উত্তর:-
বিষয়: কৃষ্ণভক্তি অনুশীলনের ক্ষেত্রে পুন্য কর্মের গুরুত্ব।
ভূমিকা: পুণ্যকর্মের ফলে মানুষ দেবদেবীর পূজা করে। কিন্তু কৃষ্ণ ভক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে হলে সাধুসঙ্গের প্রয়োজন।
ব্যাখ্যা:
শ্রীমদ ভগবদ্গীতার ৭.২৮ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন -
''যেষাং ত্বন্তগতং পাপং জনানাং পুণ্যকর্মণাম্।
তে দ্বন্দ্বমোহনির্মুক্তা ভজন্তে মাং দৃঢব্রতাঃ॥''
যে সমস্ত ব্যক্তির পাপ সম্পূর্ণ রূপে দূরীভূত হয়েছে তারা অধ্যাত্ম কর্ম বা ভগবানকে জানতে চায়। তার জন্য তারা বিভিন্ন যাগযজ্ঞ, দেবদেবীর অর্চনা করা, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি পড়ে। কিন্তু এই কর্ম দ্বারা কৃষ্ণভক্তি লাভ করা যায় না। এই কথা শুকদেব গোস্বামী শ্রীমদ ভাগবতে ৫.৫.২ শ্লোকে বলেছেন
"মহৎসেবাং দ্বারমাহুর্বিমুক্তেস্তমোদ্বারং যোষিতাং সঙ্গিসঙ্গম্
মহান্তস্তে সমচিত্তাঃ প্রশান্তা বিমন্যবঃ সুহৃদঃ সাধবো যে"
যে কোটি কোটি জন্মের সুকৃতি দ্বারা ভগবানকে লাভ করা যায়না। যদি কেউ জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হতে চাই তাহলে তাকে অবশ্যই ভগবদ ভক্তের সেবা করতে হবে। যেমন ভাগবতম থেকে আমরা জানতে পারি যে নারদ মুনি পূর্ব জন্মে দাসী পুত্র ছিলেন। তিনি শুদ্ধ বৈষ্ণবের সেবা করার ফলে পরবর্তী জন্মে নারদ মুনি হয়েছিলেন। অন্যদিকে যারা অসৎ সঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয় তাদের নরকগামী পথ প্রশস্ত হয়।
প্রভুপাদ ভগবৎ গীতার ৭.২৮ শ্লোকের তাৎপর্যে বলেছেন শুদ্ধ ভক্তের সঙ্গের প্রভাবে কৃষ্ণ ভক্তির স্তরে উন্নীত হওয়া যায়। প্রত্যেক জীবের হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেম আচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে যা উন্মুক্ত হয় কেবলমাত্র সাধুসঙ্গের প্রভাবে। যেমন আমরা দেখতে পায় হাজার হাজার হিপ্পিরা প্রভুপাদের সঙ্গের প্রভাবে শুদ্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছেন।
চৈতন্য চরিতামমৃতে (মধ্য ১৯.১৫১) বলা হয়েছে -
''ব্রহ্মান্ড ভ্রমিতে কোনো ভাগ্যবান জীব
গুরু-কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা বীজ।"
যেমন জগাই মাধায় অতি পাপী হওয়া সত্ত্বেও নিত্যানন্দ প্রভুর অহৈতুকী কৃপার ফলে তারা পাপমুক্ত হয়ে ভগবৎ ভক্তে পরিণত হয়। ভরত মহারাজ (জড় ভরত) মহারাজ রহুগণকে এই উপদেশ দিয়েছিলেন যে মহৎ সেবার দ্বারা ভগবতমুখী হওয়া যায়।
একবার শ্রীল প্রভুপাদকে তাঁর বিদেশী শিষ্যরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে 'প্রভুপাদ আমরা তো কোনো পুণ্য কর্ম করিনি তাহলে আমরা কেন ভক্ত হলাম?' তখন প্রভুপাদ তাদের বলেছিলেন 'আমি তোমাদের পুণ্যকর্ম প্রদান করেছি।'
উপসংহার :
উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানতে পারলাম যে পুণ্য কর্মের ফলে ভগবানকে জানতে ইচ্ছা করে কিন্তু জানা সম্ভব হয় না। কেবলমাত্র শুদ্ধভক্তের সঙ্গের প্রভাবে কৃষ্ণভক্তির পথ জানা যায়।