Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (1)


প্রশ্ন - ১
ভগবদ্গীতার 'ভূমিকায়' শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্য এবং মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে এমন তিনটি দৃষ্টিভঙ্গির তালিকা করুন এবং ইসকনের জন্য এই সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব কি, তা নিজের ভাষায় লিখুন।

উত্তর : ভগবদ্গীতার ভূমিকায় প্রদত্ত শ্রীল প্রভুপাদের তিনটি উদ্দেশ্য ও মনোভাব নিম্নলিখিত ভাবে তালিকাভুক্ত করা হল। 

১) আমাদের উদ্দেশ্য হলো শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাকে প্রতিষ্ঠিত করা। 

ক) জগতে সমস্ত জীব কৃষ্ণভক্তি লাভ করুক এবং তাঁর কাছে ফিরে যাক। 
খ)  এই জন্য শ্রীল প্রভুপাদ পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশে বৃহৎ বৃহৎ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। 
গ) তিনি কৃষ্ণ নাম  প্রচার করেছেন। 
ঘ) অগণিত মানুষকে কৃষ্ণ নামে দীক্ষিত করেছেন। 
ঙ) তিনি ভক্তিযোগের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে ভক্তি জীবন যাপন করবো, যেমন মঙ্গল আরতি, ভোগ অর্পণ করা, সন্ধ্যা আরতি, পুজো অর্চনা ইত্যাদি। 
চ) গৃহে থেকে কিভাবে কৃষ্ণ সেবা করা যায় তা শিখিয়েছেন। 
ছ) ভক্তিজীবন পালনের সাথে সাথে অপরের মঙ্গল সাধনের জন্য প্রচার কার্য শিখিয়েছেন। 
জ) প্রভুপাদ আমাদের অনেক সদগুরু  দিয়েছেন যাঁরা আমাদের পথ প্রদর্শন করছেন। 


২) আমাদের উদ্দেশ্য হল বদ্ধ জীবদের পথ প্রদর্শন করা।

ক) শ্রীল প্রভুপাদ বৈদিক শাস্ত্রকে সরলাকৃত করে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত করেছেন। যা বর্তমানে ১০০        টিরও বেশি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। 
খ) এই সমস্ত গ্রন্থ প্রকাশিত করার জন্য তিনি BBT স্থাপনা করেছেন। 
গ) তাঁর অনুপ্রেরণায় বর্তমান সময়ে ইস্কনে সংকীর্তন, নামহট্ট, ভক্তি বৃক্ষ, গীতা কোর্স, ইয়ুথ ফোরাম ইত্যাদি বিভাগে       বহুল পরিমানে প্রচার কার্য সম্পাদিত হচ্ছে। 
ঘ) বৈদিক গ্রন্থগুলি ভালোভাবে বোঝার জন্য তিনি বিভিন্ন কোর্স স্থাপন করেছেন যেমন, ভক্তি শাস্ত্রী,             ভক্তি বৈভব, ভক্তি বেদান্ত, ভক্তি সার্বভৌম। 
ঙ) কলিযুগের যুগধর্ম হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র সারাবিশ্বে প্রচার করে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভবিষ্যৎ বাণীকে                 বাস্তবায়িত করেছেন। 
চ) প্রভুপাদ সব কিছুর কৃতিত্ত্ব  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও  গুরুদেবকে দিয়েছেন। 
ছ) ভগবদ গীতার জ্ঞান অর্জুন যেভাবে বুঝেছিলেন প্রত্যেক জীব যাতে সেভাবেই বুঝতে পারে তাঁর চেষ্টা       করেছেন। 
জ) ভগবদ গীতা পাঠ করে একজনও যদি কৃষ্ণ ভক্তে পরিণত হয় তাহলে তিনি তাঁর প্রয়াস সার্থক হবে           বলে মনে করেছেন।  

৩) আমাদের কর্তব্য হল আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি সম্পাদন না করে কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বিধান করা। 

ক) শ্রীল  প্রভুপাদ ১০৮ টি মন্দির স্থাপনা করেছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবার জন্য। এবং পৃথিবীর বৃহত্তম মন্দির (TOVP) স্থাপনার  পরিকল্পনা দিয়ে গেছেন যা বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। 
খ) বিভিন্ন প্রকারের সুস্বাদু কৃষ্ণ প্রসাদ তৈরীর পদ্ধতি শিখিয়েছেন। 
গ) ভগবানের অপূর্ব শৃঙ্গার করা শিখিয়েছেন।
ঘ) ভগবৎ উৎসব গুলি বৃহৎ ভাবে পালন করা শিখিয়েছেন। যেমন : গৌরপূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী, রাধাষ্টমী ইত্যাদি। 
ঙ) কৃষ্ণের প্রীতির জন্য কিভাবে নৃত্য, কীর্তন , নাটক করতে হয় তা শিখিয়েছেন। 
চ) প্রভুপাদ আমাদের চারটি পাপ কার্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যথা : মাংসাহার বর্জন,  অবৈধ সঙ্গ পরিত্যাগ, নেশা বর্জন ও দ্যূতক্রীড়া বর্জন। 
ছ) তিনি সুন্দর সুন্দর অথিতি শালা নির্মাণ করেছেন। যেমন শঙ্খ ভবন, পদ্ম ভবন, চক্র ভবন ইত্যাদি।
জ) তিনি মহাপ্রসাদ বিতরণ করা শিখিয়ে গেছেন। যা  FOOD FOR LIFE এর মাধ্যমে সাফল্য মন্ডিত হচ্ছে। 

উপসংহার:
ইস্কনের একজন সদস্য হিসেবে আমার কর্তব্য হচ্ছে শ্রীলা প্রভুপাদের এই উদ্দেশ্য ও মনোভাব গুলি যথাযথ ভাবে উপলব্ধি করা এবং তার প্রচার কার্যে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে উৎসর্গ করা। 

সমাপ্ত ! হরে কৃষ্ণ !  




প্রশ্ন - ৩

ভাগবদ্গীতার ২.৬-১১ অনুসারে অর্জুনের উভয় সংকট থেকে যে মূল নীতি পাচ্ছেন তা আপনার কৃষ্ণচেতনতার অভ্যাসে কেমন ভাবে প্রযােজ্য বলে মনে করছেন, তা বর্ণনা করুন।

উত্তর : ভগবদ গীতার ২.৬-২.১১ অনুসারে অর্জুনের উভয় সংকট থেকে প্রাপ্ত মূল নীতি গুলি নিম্নলিখিত ভাবে দেওয়া হলো। তদ্পশ্চাদ সেগুলি আমার কৃষ্ণচেতনার অভ্যাসে কিভাবে প্রযোজ্য তা বর্ণনা করা হলো। 

মূল নীতি :-
ক) পরিবারের মোহ বসত আমরা অনেক সময় ধর্মপালন থেকে বিচ্যুত হই। (২.৬)
খ) অনাসক্তি, ইন্দ্রিয় সংযম ও গুরুদেবের মুখপদ্ম বাক্যের প্রতি গভীর নিষ্ঠা এগুলি প্রকৃত ধার্মিকের             লক্ষণ। (২.৬)
গ) দিব্য জ্ঞান ও ভক্তি ছাড়া জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায় না।  (২.৬)
ঘ) কৃপণতা তথা অজ্ঞনতার কারণে আমরা যখন আমাদের কর্তব্য সম্বন্ধে বিভ্রান্ত হই তখন আমাদের           উচিত গুরুর শরণাপন্ন হওয়া। (২.৭)
ঙ) সত্যদ্রষ্টা সদ্গুরু আমাদের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনের পথে পরিচালিত করেন। (২.৭)
চ) দীক্ষা গুরু গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো শ্রেয় লাভ করা। (২.৭)
ছ) যে ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি আসক্ত সে কৃপণ। (২.৭)
জ)   কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা না চাইলেও আপনা থেকেই আবির্ভূত হয়। (২.৭)
ঝ) অজ্ঞানতার কারণে আমরা শোকগ্রস্ত হয়ে পড়ি। (২.৮)
ঞ) কৃষ্ণের নির্দেশ পালন করা হলো ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ ভাগবত এর নির্দেশ পালন করা। (২.৮)
ট) তথাকথিত জ্ঞান, উচ্চপদ, অর্থনৈতিক উন্নতি এইসব কখনোই আমাদের প্রকৃত সম্যসার সমাধান          করতে পারে না। (২.৮)
ঠ) শোকগ্রস্ত হয়ে পরার ফলে আমরা কর্তব্য বিমুখ হয়ে পরি। (২.৯)
ড) প্রকৃত পন্ডিত ব্যক্তি কখনো দেহের জন্য শোক করেন না। (২.১১)

আমার জীবনে প্রয়োগ :

     উপরোক্ত নীতি গুলির মধ্যে ''(চ) দীক্ষাগুরু গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো শ্রেয় লাভ করা'' - এই নীতিটি আমার জীবনে প্রাসঙ্গিক। আমি একজন ইস্কনের সদ গুরু থেকে দীক্ষিত। গুরু  গ্রহণের উদ্দেশ্য আমি আগে জানতাম না।  আমি ভক্তি শাস্ত্রী কোর্সের অন্তর্গত ভগবৎ গীতার ২.৭ নং শ্লোকটি পরে উপলব্ধি করেছি শ্রেয় লাভ করাই হলো আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। শ্রেয় কথাটির অর্থ হলো কৃষ্ণ ভক্তি লাভ করা। তাই গুরুদেবের কাছে দীক্ষা প্রাপ্ত হয়ে আমি যে সমস্ত নির্দেশাবলী পেয়েছি আমি আমার জীবনে সেগুলি সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করবো। যেমন ভগবানের বিভিন্ন প্রকার সেবা, বিভিন্ন প্রকার ভোগ প্রস্তুতি , বিভিন্ন প্রকার শৃঙ্গার, শ্রবণ কীর্তনে মনোনিবেশ করব, হরিনামের প্রতি নিষ্ঠা পরায়ণ হব, বিভিন্ন গ্রন্থ একাগ্র চিত্তে পড়ব, এবং হৃদয়ঙ্গম করবো ,এবং তা নিজের জীবনে নিষ্ঠা সহকারে পালন করবো, এভাবে আমি ধীরে ধীরে কৃষ্ণ সেবার মাধ্যমে আমি কৃষ্ণা কৃপা লাভ করবো। 
      
      দ্বিতীয় যে নীতিটি আমার জীবনে প্রাসঙ্গিক তা হলো কৃপণ না হওয়া অর্থাৎ পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি আসক্ত না হওয়া। আমরা অত্যাধিক পরিমাণে আসক্ত হয়ে পরি এই সবের প্রতি নিজের অজান্তেই। যা আমাদের প্রকৃত কৃষ্ণভক্তি উপলব্ধির পথে বাধার সৃষ্টি করে। কারণ এগুলি সবই অসৎ বা অনিত্য।  তাই আমি সর্বতভাবে চেষ্টা করবো যাতে কখনোই আমি  এগুলির প্রতি অত্যাধিক পরিমাণে আসক্ত না হই। 

      এছাড়াও, এই সমস্ত নীতি গুলি থেকে আমি  বুঝতে পেরেছি যে আমার জীবনে বিভিন্ন সমস্যা উপস্থিত হলে  আমার উচিত আমার পরমারাধ্য গুরুদেব অথবা আমার শিক্ষাগুরু অথবা গুরুদেবের উর্ধতন শিষ্যদের  সহিত আমার পরামর্শ করা। আমার উচিত গুরুদেবের নিয়মিত প্রদত্ত  নির্দেশ গুলি যথাযথ ভাবে পালন করা। এই সমস্ত উপলব্ধির পথে সহায়ক ভক্তি শাস্ত্রী কোর্সটি  আমার জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। 



সমাপ্ত! হরে কৃষ্ণ!




১৪ প্রশ্নঃ 

উত্তরঃ 

১) ব্যক্তিগত প্রয়োগ:
 প্রথম ভাগ:
কি কি ভাবে আমি ব্যক্তিগতভাবে রজোগুণ ও তমোগুণের দ্বারা প্রভাবিত--
রজোগুণ :
অনুরাগাত্মক: আমার কোন প্রিয় বস্তু যেমন মোবাইল অন্য কোন ব্যাক্তি স্পর্শ করলে আমি ইতস্তত বোধ করি। 
 বাসনা: আমি সুন্দর অলংকারের প্রতি আকর্ষিত হই।  
আসক্তি: আমি ফাস্টফুড খাবারের প্রতি আসক্ত যেমন চাওমিন। 
লোভ: চকলেট এর প্রতি আগে তীব্র লোভ  ছিল এখনো সেই লোভ  স্বল্প পরিমাণে আছে। 
তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা: আমার চাকরি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। 
দুর্দমনীয় স্পৃহা: কোনজড় বস্তু যেমন সুন্দর পোশাক পছন্দ হয়ে গেলে সেটি আমি নেওয়ার জন্য দুর্দমনীয় স্পৃহা অনুভব করি। কর্মোদ্যম: কোন কাজ করার সময় সেটি যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে ততক্ষণ আমি মনে শান্তি অনুভব করিনা। 

তমোগুণ:
 উন্মত্ততা: আমি কখনও কখনও উন্মাদের মতো মা-বাবার উপর চিৎকার করি। 
আলস্য: আমি প্রচুর সময় নষ্ট করি আলস্যের জন্য।  
নেশাচ্ছন্নতা: চকলেটের প্রতি আমার নেশা আছে। 
মোহাচ্ছন্নতা: আমি বাড়ি ও মা বাবার প্রতি মোহাচ্ছন্ন। 
অজ্ঞানতা: আমি অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি ফেলি অজ্ঞানতার কারণে। 

দ্বিতীয় ভাগ :
সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি করার আমার বাস্তব পন্থা: 
১) ব্রহ্ম মুহুর্তে ওঠা 
২) স্নান করা 
৩) তিলক করা 
৪) মঙ্গলারতি করা 
৫) গুরুদেব কে প্রণাম করা 
৬) প্রসাদ পাওয়া 
৭) গ্রন্থ অধ্যায়ন করা 
৮) জপ করা 
৯) আচমন করা 
১০) প্রবচন শোনা 
১১) আরতি করা 
১২) অর্চ্যবিগ্রহের সেবা করা 
১৩) ভক্ত সঙ্গ করা 
১৪) ধামে গমন করা 
১৫) বৈষ্ণবের আদেশ পালন করা 
১৬) চারটে নিয়ম পালন করা 
১৭) প্রচার করা 
১৮) কীর্তন করা 
১৯) ব্যর্থ সময় নষ্ট না করা 
২০) বৈষ্ণবের অপরাধ না করা






তৃতীয় ভাগ:-

সংস্কৃত শ্লোক ও তাৎপর্য থেকে উদ্ধৃতি --

সত্ত্বগুণ:

শ্লোক ১৪.৬ থেকে : সত্ত্ব গুণ নির্মল, প্রকাশকারী ও পাপশূন্য। ইহা সুখ ও জ্ঞানের দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে। 
তাপর্য থেকে : সত্ত্ব গুণের দ্বারা প্রভাবিত মানুষ জগতের দুঃখ কষ্ট দ্বারা ততটা প্রভাবিত হন না। সত্ত্বগুণের অর্থ উন্নত জ্ঞান ও অধিকতর সুখানুভুতি। প্রভুপাদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন সত্ত্বগুণে অধিস্থিত ব্যক্তিরা যেমন বিজ্ঞানী, কবি ও দার্শনিকরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে ভাবেন যে তারা বাকিদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী ও শ্রেয় এবং তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নত। তাই এই ধরণের জড়সুখ তাদের সত্ত্বগুণের বন্ধনে আবদ্ধ করে।

শ্লোক ১৪.১১ থেকে : দেহের নয়টি দ্বারে জ্ঞানের প্রকাশ সত্ত্ব গুনের লক্ষণ। 
তাৎপর্য থেকে : সত্ত্ব গুণে অধিষ্ঠিত হলে যথাযথ ভাবে দর্শন করা যায়, যথাযথ ভাবে শ্রবণ করা যায়, যথাযথ ভাবে স্বাদ গ্রহণ করা যায়। 

শ্লোক ১৪.১৪ থেকে : সত্ত্বগুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্তকালে দেহত্যাগ করলে ব্যক্তি মহর্ষিদের নির্মল উচ্চলোক লাভ করেন।
তাৎপর্য থেকে : সাত্ত্বিক লোকেরা ব্রহ্মলোক বা জনলোক আদি উচ্চতর লোকে গমন করেন এবং সেখানে স্বর্গসুখ উপভোগ করেন। 

১৪.১৬ শ্লোকের তাৎপর্য থেকে : সত্ত্বগুণে পুণ্যকর্ম করার ফলে মন পবিত্র হয়। তাই এই স্তরে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা সর্বদা আনন্দময়। 

রজোগুণ:

শ্লোক ১৪.৭ থেকে : রজোগুণ অনুরাগাত্মক এবং তা তৃষ্ণা ও আসক্তি থেকে উৎপন্ন, ইহা জীবকে সকাম কর্মের দ্বারা আবদ্ধ করে। 
তাৎপর্য থেকে : রজোগুণের বৈশিষ্ট হচ্ছে স্ত্রী পুরুষের আকর্ষণ। রজোগুণ বর্ধিত হলে মানুষ জাগতিক ইন্দ্রিয় সুখ ভোগ করতে চায়। প্রতিষ্ঠা, সুখী পরিবার ইত্যাদি কামনা করার ফলে রজোগুণী ব্যক্তিকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। 

১৪.৯ শ্লোকের তাৎপর্য থেকে : রজোগুণী ব্যক্তিরা সকাম কর্মে নিযুক্ত হয়ে যে অর্থ উপার্জন করে তা তারা বিভিন্ন জাগতিক সৎকার্যে ব্যয় করে যেমন হাসপাতাল খোলা বা কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা ইত্যাদি। 
শ্লোক ১৪.১২ থেকে : রজোগুণ বৃদ্ধি হলে লোভ, কর্মোদ্যম, প্রবৃত্তি, দুর্দমনীয় স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। 
তাৎপর্য থেকে :রজোগুণ সম্পন্ন ব্যক্তি সর্বদা অসন্তুষ্ট। তিনি প্রাসাদোপম গৃহনির্মাণ করে  চিরকাল পরিবারের সাথে থেকে ইন্দ্রিয় সুখ ভোগ করতে চান। 

শ্লোক ১৪.১৫ থেকে : রজোগুণে মৃত্যু হলে ব্যক্তির কর্মাসক্ত মনুষ্যকূলে জন্ম হয়। 
১৪.১৬ শ্লোকের তাৎপর্য থেকে : রাজসিক কর্ম সর্বদায় ক্লেশদায়ক। 

তমোগুণ:

শ্লোক ১৪.৮ থেকে : তমোগুণ অজ্ঞান ও মোহনকারী। ইহা প্রমাদ, আলস্য ও নিদ্রার দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে। 
তাৎপর্য থেকে : তমোগুণে আচ্ছন্ন সবাই উন্মাদ। অতিরিক্ত ঘুম ও মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি ইত্যাদি তমোগুণী ব্যক্তির লক্ষণ। এই ধরণের মানুষ অত্যন্ত অলস এবং সর্বদা বিষাদগ্রস্ত। 

শ্লোক ১৪.১৩ থেকে : তমোগুণ বর্ধিত হলে অজ্ঞান-অন্ধকার, নিষ্ক্রিয়তা, প্রমাদ ও মোহ উৎপন্ন হয়। 
তাৎপর্য থেকে : তমোগুণ সম্পন্ন ব্যক্তি খেয়াল খুশি মতো উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে আচরণ করে। যদিও তার কাজ করার ক্ষমতা আছে তবু সে কোনো রকম প্রচেষ্টা করে না। চেতনা থাকতেও সে নিষ্ক্রিয়।

শ্লোক ১৪.১৫ থেকে : তমোগুণে মৃত্যু হলে ব্যক্তির পশু যোনিতে জন্ম হয়। 
১৪.১৬ শ্লোকের তাৎপর্য থেকে : তমোগুণে অজ্ঞানতায় কৃত কার্যের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদাই দুঃখভোগ করতে হয়।



উপসংহার : উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানতে পারি যে সত্ত্বগুণ শান্তি প্রদানকারী তথা ভক্তির অনুকূল তাই আমাদের উচিত সত্ত্বগুণে অধিষ্ঠিত হওয়া।  কিন্তু রজোগুণ দুঃখ প্রদায়ী তথা তমোগুণ হলো অজ্ঞানতা তাই আমাদের এগুলি থেকে যথাসম্ভব উঠে আসা উচিত। 








সত্ত্বগুণ                                            রজোগুণ                                               তমোগুণ 

নির্মল, জ্ঞান প্রকাশকারী,           অনুরাগাত্মক, তৃষ্ণা                          মোহনকারী, অজ্ঞানকারী,
পাপশূন্য, সুখদায়ী।                     আসক্তি, সকাম কর্ম।                      প্রমাদ, আলস্য, নিদ্রা। 
(ভ:গী: ১৪.৬)                              (ভ:গী: ১৪.৭)                                    (ভ:গী: ১৪.৮)

দেহের নয়টি দ্বারে                      লোভ, প্রবৃত্তি, কর্মোদ্যম,                অজ্ঞান অন্ধকার, নিষ্ক্রিয়তা,
জ্ঞানের প্রকাশ হয়                     ও দুর্দমনীয় স্পৃহা বৃদ্ধি                   প্রমাদ ও মোহো উৎপন্ন হয়
সত্ত্ব গুণ বর্ধিত হলে।                  হয় রজোগুণ বৃদ্ধি পেলে।              তমোগুণ বৃদ্ধি পেলে। 
(ভ:গী: ১৪.১১)                             (ভ:গী: ১৪.১২)                                (ভ:গী: ১৪.১৩)









সমাপ্ত! হরে কৃষ্ণ!



Popular posts from this blog

Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (4)

Bhakti Shastri Answer : ভক্তিরসামৃতসিন্ধু

Bhakti Shastri Answer : ভগবদগীতা (3)